বিশ্বকাপ উত্তাপ: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঐতিহাসিক লড়াইয়ে বাংলাদেশ, র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের সুসংবাদ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের দ্বৈরথ দীর্ঘ পঁচিশ বছরের। ১৯৯৭ সালে প্রেসিডেন্ট কাপে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে দুই দল নিয়মিতই একে অপরের বিপক্ষে লড়েছে। এমনকি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় কিংবা টি-টোয়েন্টি সংস্করণে যাত্রা শুরু—সবই ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এত বছরের ইতিহাসে কোনো সংস্করণের বিশ্বকাপেই এর আগে দেখা হয়নি এই দুই দলের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চলমান এই বৈশ্বিক আসরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে তারা।
পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্মের ভিন্ন চিত্র
পরিসংখ্যানের পাতায় তাকালে দেখা যায়, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের চেয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত খেলা ১৯টি ম্যাচের মধ্যে ১২টিতেই শেষ হাসি হেসেছে টাইগাররা। তবে অতীত পরিসংখ্যান আর বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক। জিম্বাবুয়ে তাদের সাম্প্রতিক ফর্মে রীতিমতো উড়ছে। আফ্রিকার এই দলটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে সুপার টুয়েলভে জায়গা করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, মাত্র ১৩০ রানের পুঁজি নিয়ে তারা পাকিস্তানের মতো টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলকে হারিয়ে দিয়েছে ১ রানের অবিশ্বাস্য জয়ে। আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর জিম্বাবুয়ে এখন যেকোনো অঘটন ঘটাতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অবস্থা কিছুটা নড়বড়েই বলা চলে। জিম্বাবুয়ের মাটিতে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে আসা বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। তাই পরিসংখ্যান পক্ষে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে সাকিব আল হাসানদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।
কন্ডিশন ও অধিনায়কের ভাবনা
ব্রিসবেনের পিচ নিয়ে দারুণ আশাবাদী ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। পিচ রিপোর্টে তিনি জানিয়েছেন, এখানকার আবহাওয়া এবং উইকেট টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য আদর্শ। উইকেটে পেসার এবং স্পিনারদের জন্য বাড়তি সুবিধা বা ‘ক্র্যাক’ থাকবে। মাঠের আকারও বেশ বড়, বিশেষ করে সোজা ও দুই পাশের বাউন্ডারি ৭৬ থেকে ৮২ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে ডানহাতি ব্যাটারদের জন্য ডিপ থার্ড ম্যানের বাউন্ডারি কিছুটা ছোট, যা ৬৩ মিটারের মতো।
মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন অবশ্য মাটিতেই পা রাখছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে তিনি বাংলাদেশকে যথেষ্ট সমীহ করছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা দিয়েই খেলতে হবে। বাংলাদেশ দলও পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নতুন ছক কষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের বড় লাফ
এদিকে বিশ্বকাপের এই ডামাডোলের মাঝেই আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বড়সড় সুখবর পেয়েছে ভারত। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে প্রকাশিত হালনাগাদ র্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয় ক্রিকেটারদের দাপট দেখা গেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে জোড়া হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। বাঁহাতি এই ব্যাটারের রেটিং পয়েন্ট এখন ৯২৯, যা তার ক্যারিয়ার সেরা ৯৩১ পয়েন্টের খুব কাছাকাছি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংলিশ ওপেনার ফিল সল্টের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। ভারতের তরুণ তুর্কি তিলক ভার্মা রয়েছেন তৃতীয় স্থানে।
ব্যাটারদের সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের অভিজ্ঞ তারকা সূর্যকুমার যাদবও। কিউইদের বিপক্ষে গুয়াহাটিতে খেলা অপরাজিত ৫৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস তাকে পাঁচ ধাপ এগিয়ে সপ্তমে নিয়ে এসেছে। বিশ্বকাপ অভিযানের আগে দলের এমন ব্যক্তিগত অর্জন ভারতের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বোলার ও অলরাউন্ডারদের অবস্থান
শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বোলিং ও অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও ভারতীয়দের জয়জয়কার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন উইকেট শিকার করে পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ চার ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে, স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তিন উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। অলরাউন্ডারদের তালিকায় হার্দিক পান্ডিয়া এক ধাপ এগিয়ে তৃতীয় এবং শিবম দুবে ছয় ধাপ এগিয়ে ১১তম স্থানে উঠে এসেছেন। তবে অলরাউন্ডারদের শীর্ষে এখনো নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ তারকা সিকান্দার রাজা।
অন্যান্য দলের ক্রিকেটারদের অগ্রগতি
বিশ্বজুড়ে চলা টি-টোয়েন্টি অ্যাকশনের প্রভাবে অন্যান্য দেশের ক্রিকেটাররাও র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম নয় ধাপ এগিয়ে ২০তম, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রেন্ডন কিং ১৫ ধাপ এগিয়ে ৩৫তম এবং নিউজিল্যান্ডের গ্লেন ফিলিপস ১৮ ধাপ এগিয়ে ৪৪তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। বোলারদের মধ্যে আফগানিস্তানের মুজিব উর রহমান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছেন। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও পরিবর্তন এসেছে, যেখানে হ্যারি ব্রুক ও জো রুট পুরস্কৃত হয়েছেন।