উইন্ডোজ ১১-এর ‘ক্রস ডিভাইস রিজিউম’ ফিচার: অবশেষে কাজের উপযোগী হয়ে উঠছে
ফোনে কোনো কাজ শুরু করে সেটা পিসিতে ঠিক যেখান থেকে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই আবার শুরু করার সুবিধা—শুনতে দারুণ লাগে, তাই না? উইন্ডোজ ১১-তে ‘ক্রস ডিভাইস রিজিউম’ (Cross Device Resume) নামে এমনই একটি ফিচার রয়েছে। তবে নামটা শুনে যদি অপরিচিত মনে হয় বা মনে করতে না পারেন, তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই সুবিধাটি খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। মূলত ২০২৫ সালের মে মাসে যখন প্রথম এটি যুক্ত করা হয়, তখন এর কার্যক্ষমতা ছিল বেশ সীমিত, যে কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীরা এর প্রতি খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। তবে মাইক্রোসফট এবার এই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।
নতুন আপডেটে যা থাকছে
মাইক্রোসফট সম্প্রতি তাদের একটি ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, তারা রিলিজ প্রিভিউ চ্যানেলে উইন্ডোজ ১১-এর ২৪এইচ২ (24H2) এবং ২৫এইচ২ (25H2)-এর জন্য যথাক্রমে বিল্ড ২৬১০০.৭৭০১ এবং ২৬২০০.৭৭০১ উম্মুক্ত করেছে। ক্যানারি, ডেভ এবং বেটা চ্যানেলে দীর্ঘ পরীক্ষার পর যখন কোনো প্যাচ বা আপডেট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই সেটি রিলিজ প্রিভিউতে পাঠানো হয়। এর পরেই এটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
এই নতুন আপডেটে অনেক পরিবর্তন থাকলেও, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ক্রস ডিভাইস রিজিউম ফিচারের সম্প্রসারণ। এতদিন এই ফিচারটি অনেকটা অ্যাপলের ‘হ্যান্ডঅফ’-এর মতো কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে এটি ছিল শুধু ওয়ানড্রাইভ (OneDrive) নির্ভর। অর্থাৎ, ফোনে কোনো ওয়ার্ড ফাইলে কাজ করলে সেটা ক্লাউড সেভ ফিচারের মাধ্যমে পিসিতে দেখা যেত। কিন্তু এটি সরাসরি অ্যাপ ডিটেকশন বা শনাক্তকরণের ওপর ভিত্তি করে কাজ করত না, যা ব্যবহারকারীদের জন্য খুব একটা সুবিধাজনক ছিল না।
আসল ‘অ্যাপ শেয়ারিং’ অভিজ্ঞতা
দীর্ঘদিন পরীক্ষার পর, গত আগস্ট থেকে পরীক্ষাধীন উন্নত ক্রস ডিভাইস রিজিউম সাপোর্ট এখন সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর অপেক্ষায়। নতুন এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন আর শুধু ওয়ানড্রাইভের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না। এখন থেকে ফোনে স্পটিফাই (Spotify)-এ গান শুনতে শুনতে পিসিতে বসলে সেখান থেকেই আবার গানটি উপভোগ করা যাবে। এছাড়া মাইক্রোসফট এজ (Edge) ব্রাউজারের সেশন, ওয়ার্ড, এক্সেল এবং পাওয়ারপয়েন্টের কাজগুলোও এখন সরাসরি ফোন থেকে পিসিতে নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়া যাবে।
মাইক্রোসফট আরও জানিয়েছে যে অনার, অপ্পো, স্যামসাং, ভিভো এবং শাওমি ফোনের ব্যবহারকারীরা তাদের পিসির কো-পাইলট (Copilot)-এ অনলাইন ফাইলগুলো সহজেই হ্যান্ডঅফ করতে পারবেন। যদি পিসিতে সংশ্লিষ্ট অ্যাপটি ইনস্টল করা থাকে, তবে ফাইলটি সরাসরি সেই অ্যাপেই খুলবে; অন্যথায় এটি ব্রাউজারে চালু হবে। প্রযুক্তিবোদ্ধাদের মতে, আগের তুলনায় এই ব্যবস্থাটি অনেক বেশি কার্যকর ও কাজের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
অ্যাপলের সাথে প্রতিযোগিতা ও পূর্বের প্রচেষ্টা
ফিচারটি এখন ম্যাকওএস-এর ‘হ্যান্ডঅফ’ (Handoff)-এর সাথে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ম্যাক, আইফোন, আইপ্যাড বা অ্যাপল ওয়াচের মধ্যে কাজ ভাগাভাগি করতে দেয়। মাইক্রোসফট গত বছর তাদের ‘বিল্ড’ ডেভেলপার কনফারেন্সে উইন্ডোজ ১১-এর জন্য এই ক্রস-ডিভাইস রিজিউম সাপোর্টের ঘোষণা দিয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে উইন্ডোজ ১০-এও ‘প্রজেক্ট রোম’ (Project Rome) নামে একই ধরনের একটি অ্যাপ হ্যান্ডঅফ ফিচার আনার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু ডেভেলপারদের মধ্যে সেটি খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন
রিলিজ প্রিভিউতে এই ফিচার আসার অর্থ হলো, খুব শীঘ্রই এটি সবার জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। ক্রস ডিভাইস রিজিউম ছাড়াও এই আপডেটে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। এর মধ্যে রয়েছে উইন্ডোজ ১১-এ উন্নত ‘MIDI 2.0’ সাপোর্ট এবং ভয়েস টাইপিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু উন্নতি। পাশাপাশি, উইন্ডোজ হ্যালো এনহ্যান্সড সাইন-ইন সিকিউরিটি (ESS)-এর জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সাপোর্ট যুক্ত করা হয়েছে।
যারা কো-পাইলট প্লাস (Copilot Plus) পিসি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য একটি সুখবর হলো—নতুন সেটিংস এজেন্ট এখন জার্মান, পর্তুগিজ, স্প্যানিশ, কোরিয়ান, জাপানিজ, হিন্দি, ইতালিয়ান এবং চাইনিজ (সরলীকৃত) ভাষা সমর্থন করবে। সব মিলিয়ে, উইন্ডোজ এবং অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের মধ্যে দূরত্ব কমাতে এই আপডেটটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।